বর্তমান অবস্থায় করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালে ৬৭% শয্যাই খালি

৬৭% শয্যাই খালি

বর্তমান অবস্থায় করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালে ৬৭% শয্যাই খালি
সূত্র: আইইডিসিআর, করোনাডটগভডটবিডি

দেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও বেশির ভাগই হাসপাতালে যাচ্ছেন না। ৯৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ রোগীই চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসায় থেকে। অন্যদিকে সারা দেশে করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শয্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি (৬৭.৪৮ শতাংশ) খালি পড়ে আছে।

বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আক্রান্তদের একটি বড় অংশের লক্ষণ ও উপসর্গ মৃদু। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। মূলত যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদেরই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাঁরা মারা যাচ্ছেন, তাঁদের একটা অংশের মৃত্যু হচ্ছে বাসায়। গত ছয় দিনে মোট মৃত্যুর ২৩ শতাংশই হয়েছে বাসায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরও অনেকে হাসপাতালে যাচ্ছেন না।

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের সব বিভাগ মিলিয়ে করোনার রোগীদের জন্য মোট সাধারণ শয্যা আছে ১৪ হাজার ৬১০টি। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) আছে ৩৭৯টি। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ৪ হাজার ৬৯১ জন আর আইসিইউতে ১৮৩ জন ভর্তি আছেন।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, ঢাকা মহানগরীতে শুধু করোনার চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল আছে ১৬টি। ঢাকা জেলায় আছে একটি। ঢাকা মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে করোনার চিকিৎসার জন্য সাধারণ শয্যা ৬ হাজার ৭৭৩টি। আইসিইউ আছে ১৮০টি। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় এখন রোগী ভর্তি আছেন ২ হাজার ৭৭৩ জন; আইসিইউতে আছেন ১৮০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব মিলিয়ে সারা দেশে মোট ৪ হাজার ৮৭৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর শুরু থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিলে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ৬৮০। অর্থাৎ করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন এমন রোগীদের মাত্র ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ এ মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকি ৯৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসায়।

এই সময়ে করোনায় মৃত্যুর ২৩ শতাংশ হয়েছে বাসায়


যদিও মোট আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় দেশে হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা অপ্রতুল। কিন্তু যে সংখ্যক শয্যা আছে, সেগুলোর বেশির ভাগই এখন খালি। গতকালের হিসাবে করোনার জন্য মোট নির্ধারিত শয্যার ৬৭ দশমিক ৪৮ শতাংশই খালি। আর মোট আইসিইউ শয্যার প্রায় অর্ধেক খালি। দেশে করোনার চিকিৎসার জন্য মোট আইসিইউ আছে ৩৭৯টি। এর মধ্যে ১৮৩টিতে রোগী ভর্তি আছেন। বাকি ১৯৬টি খালি আছে।

গতকাল নাসিমা সুলতানা বলেছেন, সব হাসপাতালে রোগীরা সহজে ভর্তি হতে পারবেন। অনেক শয্যা খালি আছে। ভর্তির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যাবে। কোন হাসপাতালের কী অবস্থা, কোথায় ভর্তি হওয়া যাবে—এসব তথ্য এখান থেকে পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুরু থেকে বলে আসছে, সাধারণ সর্দিজ্বর, সামান্য গলাব্যথা হলে অর্থাৎ লক্ষণ উপসর্গ মাঝারি বা জটিল না হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু মৃত্যুর তথ্য বলছে, অনেকে তীব্র উপসর্গ বা জটিল উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে থাকছেন। মৃত্যুর পর তা জানা যাচ্ছে। দেশে গত ছয় দিনে মোট ২৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর মধ্যে ৫৩ জনের মৃত্যু হয় বাড়িতে। আর ২ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অর্থাৎ এই সময়ে করোনায় মৃত্যুর ২৩ শতাংশ হয়েছে বাসায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণ হিসাবে মোট আক্রান্তের ২০ শতাংশের মতো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এর মধ্যে ৫ শতাংশের মতো রোগীর অক্সিজেন এবং ১ শতাংশের আইসিইউ সুবিধা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু দেশে ৯৪ শতাংশ রোগীই বাসায়, এটা একটু বেশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকে বাসায় মারা যাচ্ছেন।

এতে বোঝা যায়, গুরুতর অনেকেও হাসপাতালে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এখনো হাসপাতালের অনেক শয্যা খালি আছে। তার মানে কি রোগীরা হাসপাতালে যাচ্ছেন না? না গেলে কেন যাচ্ছেন না? নাকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না? এসব খতিয়ে দেখা উচিত।

মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৩০ হাজার


গতকাল সংবাদ বুলেটিনে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৮ হাজার ৪৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৬৮ জনের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়।

গতকাল পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৯১ শতাংশ। এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৪। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪০ জন। এর মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে নিজ বাসায়। দেশে করোনায় মোট ১ হাজার ৬৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকার। আর সুস্থ হয়েছেন মোট ৫৩ হাজার ১৩৩ জন।

Post a Comment

0 Comments